আজ-  ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ২১শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» রাজনগরে প্যানেল চেয়ারম্যান অপসারণের ষড়যন্ত্র : নিরপেক্ষ তদন্ত চান সদস্যরা «» দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুলে রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খাঁন চত্বর নামকরণের সাইনবোর্ড স্থাপন «» Government’s First 100 Days Show Promise, but Lack of Clear Roadmap «» মাওলানা আব্দুল মোছাব্বির রহ. এর ঈসালে সাওয়াব উপলক্ষ্যে তালামীযে ইসলামিয়া সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসার দুআ মাহফিল «» শিক্ষকদের জীবনযাপন: বাস্তবতা, সংকট ও প্রত্যাশা বশির আহমদ «» ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা! «» বগুড়া সান্তাহারে বহুল আলোচিত মাদকসম্রাঞ্জী শুটকি ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার «» বগুড়া আদমদীঘিতে মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন মামলায় ৪ নারীসহ ১৩ আসামি গ্রেপ্তার «» আদমদীঘিতে ৪শত পিচ ইয়াবা সহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার «» কমলগঞ্জে বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ’র ঈদ পুনর্মিলনী ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত।

শিক্ষকদের জীবনযাপন: বাস্তবতা, সংকট ও প্রত্যাশা বশির আহমদ

শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম। একজন শিক্ষক কেবল পাঠদান করেন না; তিনি একজন শিক্ষার্থীকে নৈতিকতা, আদর্শ, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তোলেন। তাই শিক্ষকদের বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমাদের দেশের অনেক শিক্ষক আজ আর্থিক সংকট ও নানাবিধ সীমাবদ্ধতার মধ্যে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

শিক্ষকতার জীবন সাধারণত অত্যন্ত সাদামাটা। অধিকাংশ শিক্ষক নির্দিষ্ট ও সীমিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল। এই সীমিত বেতন দিয়ে বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, সন্তানের লেখাপড়া, চিকিৎসা ব্যয়, পারিবারিক ভরণপোষণ, আত্মীয়-স্বজনের দায়িত্ব এবং সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিচালনা করা অনেক সময় অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে একজন শিক্ষককে প্রায়ই নীরব সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে হয়।

সমাজের অনেকেই মনে করেন, শিক্ষকরা আর্থিকভাবে বেশ স্বচ্ছল। কিন্তু বাস্তবতা অনেক ভিন্ন। অধিকাংশ শিক্ষক সৎ ও নীতিবান জীবনযাপন করেন। তারা ঘুষ, দুর্নীতি কিংবা অবৈধ উপার্জনের পথ বেছে নেন না। সরকারের নির্ধারিত বেতন ও ভাতার ওপর নির্ভর করেই তারা সংসার পরিচালনা করেন। ফলে ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে তাদের জীবনযাত্রা অনেক সময় কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে কিছু ব্যক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব অবহেলা করে ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্য পেশায় জড়িয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হলেও তা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য কখনো কল্যাণকর নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জন করা নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ববোধের পরিপন্থী।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষক সমাজকে বিশেষ মর্যাদা ও আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয়। কারণ তারা উপলব্ধি করেছে যে, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগই একটি জাতির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের মূল ভিত্তি।

 কিন্তু বাংলাদেশে এখনো অনেক শিক্ষক তাদের দায়িত্ব ও অবদানের তুলনায় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে অনেক শিক্ষক পরিবারের সন্তানদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতেও হিমশিম খেতে হয়।

শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা, মর্যাদা ও পেশাগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি। একজন শিক্ষক যখন তার নিজের পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণে উদ্বিগ্ন থাকেন, তখন শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহলের আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

একটি জাতির উন্নয়ন শিক্ষার উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আর শিক্ষার উন্নয়ন নির্ভর করে শিক্ষকদের ওপর। তাই শিক্ষক সমাজকে যথাযথ মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং জাতি উপকৃত হবে। শিক্ষকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কধধল্যাণ নিশ্চিত করা।

লেখক

বশির আহমদ,

 অধ্যক্ষ, উলুয়াইল ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা, মৌলভীবাজার সদর।