মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়, দুর্ভোগে শিশুরোগী ও অভিভাবকরা
দীপ্তনিউজ :
হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি শিশুরা লড়ছে জীবনের সঙ্গে, আর তাদের বাবা-মায়েরা লড়ছেন চিকিৎসার খরচ ও অর্থ জোগাড়ের জন্য। রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর চাপ। অতিরিক্ত রোগীর কারণে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনেক সময় অসহায় হয়ে পড়ছেন রোগী ও অভিভাবকদের সামনে। এ পরিস্থিতিতে দেশের সর্বস্তরের নাগরিকরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হাসপাতালের ৬ষ্ঠ তলার ওয়ার্ডে দেখা গেছে করুণ চিত্র। এখানে সাধারণ বেডগুলোতে একসঙ্গে ৫-৬ জন রোগীকে রাখা হয়েছে। বেড সংকটের কারণে চলাচলের রাস্তার পাশেও রোগী রাখা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ফাঁকা বেডগুলোতেও হাম আক্রান্ত শিশুদের রাখা হচ্ছে।
ওয়ার্ডে প্রবেশ করলেই দেখা যায়, কারও হাতে বা পায়ে ক্যানোলা লাগানো, কারও মুখে অক্সিজেন মাস্ক, কারও নাকে নল, কারও শরীরে চলছে স্যালাইন। শিশুগুলোর অসহায় চাহনি যেন বলছে—কেউ এলেই বুঝি আবার ব্যথা দেবে। চারদিকে শুধু কান্না আর আহাজারির শব্দ।
অভিভাবকদের অভিযোগ, হাসপাতালের ভেতরে সন্তানকে রাখার জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা আর চিকিৎসা খরচের চিন্তায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন অনেক বাবা-মা। অনেকে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে পড়ে থেকে নিজেরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
ওয়ার্ডের বাইরে ইউনিটের বারান্দায় ও করিডোরে অনেক মানুষ পাটি বিছিয়ে শুয়ে আছেন। চোখে-মুখে ক্লান্তি ও হতাশার ছাপ স্পষ্ট। তাদের অনেকেই জানাচ্ছেন, কয়েক রাত ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি। যদিও বর্তমানে রোগীর চাপ কিছুটা কমেছে, তবে কয়েকদিন আগেও পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ ছিল বলে জানান তারা।
সচেতন মহলের মতে, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় শিশুমৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা বলেন, শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের চাবিকাঠি। তাই দ্রুত হাসপাতালে শয্যা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করা জরুরি।
দেশের সর্বস্তরের নাগরিকরা মনে করছেন, হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এটি আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।
সূত্র দৈনিক মানবজমিন






