সালেহ আহমদ (স’লিপক):
বাংলা সাহিত্যে শুদ্ধতার কবি একুশে পদকপ্রাপ্ত অসীম সাহা এর পরলোক গমনে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে এবং শোকসভা আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ পোয়েটস ক্লাব।
মঙ্গলবার (১৮ জুন) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসীম সাহা এর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
শুদ্ধতার কবি অসীম সাহার মৃত্যুতে বাংলাদেশ পোয়েটস ক্লাব এক যৌথ বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ ও শোক সন্তপ্ত পরিবার পরিজনের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে এবং আগামী ২৬ জুন বিকাল পাঁচটায় রাজধানী ঢাকার বাংলাবাজারস্থ বিউটি বোর্ডিংয়ে কবি অসীম সাহা স্মরণে শোক সভা আয়োজন করার ঘোষণা দিয়েছে।

বাংলাদেশ পোয়েটস ক্লাবের চেয়ারম্যান কবি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, কো-চেয়ারম্যান কবি ডক্টর শহীদুল্লাহ্ আনসারী, মহাপরিচালক কবি নাহিদ রোকসানা, নির্বাহী পরিচালক গীতিকার ঢালী মোহাম্মদ দেলোয়ার, পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারা খানম, পরিচালক ড. জসিম উদ্দিন শেখ, পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. বদরুজ্জামান, পরিচালক অধ্যাপক আলেয়া চৌধুরী, পরিচালক কবি মির্জা আশরাফুল ইসলাম, পরিচালক কবি মুস্তারী বেগম, পরিচালক কবি হৃষীকেশ রায় শংকর, পরিচালক সাংবাদিক আবদুর রশিদ চৌধুরী, পরিচালক কবি তন্ময় হারিস, পরিচালক গবেষক মো. মনিরুজ্জামান, পরিচালক গবেষক ড. সাহেদ মন্তাজ, পরিচালক খান আখতার হোসেন, পরিচালক অধ্যাপক মিলন রায়, পরিচালক কবি লুৎফুর রহমান চৌধুরী, পরিচালক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আলী খান চৌধুরী, ঢাকা জেলা ও বিভাগীয় সভাপতি কবি আতাউল ইসলাম সবুজ, ঢাকা মহানগর সভাপতি সনেট কবি আব্দুর রাজ্জাক, চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি কবি সুপ্রিয় কুমার বড়ুয়া, সিলেট জেলা সভাপতি অধ্যাপক সিরাজুল হক, সিলেট মহানগর সভাপতি কবি ধ্রুব গৌতম, হবিগঞ্জ জেলা সভাপতি কবি নিলুপা ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি কবি সালেহ আহমদ (স’লিপক), সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি কবি আব্দুল আজিজ চৌধুরী, ময়মনসিংহ সভাপতি কবি জালাল উদ্দীন আহমেদ, নেত্রকোনা জেলা সভাপতি কবি তৌফিকা আজাদ, কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি কবি জাকারিয়া আনসারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সভাপতি কবি সৈয়দা শিরিন আক্তার, সিরাজগঞ্জ জেলা সভাপতি কবি আব্দুল হামিদ সরকার, ফরিদপুর জেলা সভাপতি কবি শরীফ মুহাম্মদ সালমান, যশোর জেলা সভাপতি কবি নাহিন ফেরদৌস, খুলনা মহানগর সভাপতি কবি মনিরুল ইসলাম সেলিম, চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি কবি তালুকদার হালিম, দিনাজপুর জেলা সভাপতি কবি ইয়াসমিন আরা রানু, বৃহত্তর কুষ্টিয়া সভাপতি কবি মো. নুরুল হুদা ডিউক, গোপালগঞ্জ জেলা সভাপতি কবি দীন ইসলাম, গাজীপুর জেলা সভাপতি কবি আব্দুল মান্নান শেখ, নরসিংদী জেলা সভাপতি কবি মুর্শেদা ভূঞা মীরা, নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি কবি ডাক্তার তাহেরা খানম, নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি কবি জালাল উদ্দীন নলুয়া, টাঙ্গাইল জেলা সভাপতি কবি শামসুন্নাহার রুবাইয়া, কুমিল্লা জেলা সভাপতি কবি লায়লা আর্জুমান আরা শিউলী, ফেনী জেলা সভাপতি কবি খন্দকার মাহবুব ই এলাহী, নোয়াখালী জেলা সভাপতি কবি ফারুক আল্ ফয়সাল, লক্ষীপুর জেলা সভাপতি কবি নাসরীন জাহান রীণা, রংপুর জেলা সভাপতি কবি পূর্ণিমা রাজ, কক্সবাজার জেলা সভাপতি কবি আবুল হোসেন হেলালী, বান্দরবান জেলা সভাপতি কবি মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং পোয়েটস ক্লাব সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, সহ-সভাপতি শিল্পী শফিকুল ইসলাম স্বপন, সহ-সভাপতি কবি মিয়া আসলাম প্রধান, সহ-সভাপতি মাসুদা সিদ্দিকা রুহী, সহ-সভাপতি কবি আফরোজা জেসমিন, সাধারণ সম্পাদক কবি সুবর্ণা অধিকারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিল্পী তৃষ্ণা মার্টিনা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মো সাহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক কবি অমিতাভ চক্রবর্তী, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কবি হুমায়ুন কবির, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কবি সেলিনা আহমেদ ডডন প্রমুখ যৌথ বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং কবি অসীম সাহা স্মরণে শোক সভা আয়োজন করার ঘোষণার সাথে একমত পোষণ করেন।
উল্লেখ্য, শুদ্ধতার কবি অসীম সাহা একজন বাংলাদেশী কবি ও ঔপন্যাসিক। বাংলা সাহিত্যে সামগ্রীক অবদানের জন্য তিনি ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।
অসীম সাহা ১৯৪৯ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারী নেত্রকোণা জেলায় তার মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক নিবাস মাদারীপুর। তার পিতা অখিল বন্ধু সাহা ছিলেন অধ্যাপক। অসীম সাহা ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিক পাস করেন এবং ১৯৬৭ সালে মাদারীপুর নাজিমুদ্দিন মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬৯ সালে স্নাতক পাস করে তিনি ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৬৯ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং পরে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তার স্নাতকোত্তর পরীক্ষা পিছিয়ে যায় এবং তিনি ১৯৭৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
শুদ্ধতার কবি অসীম সাহা রচিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পূর্ব-পৃথিবীর অস্থির জ্যোৎস্নায় (১৯৮২), কালো পালকের নিচে (১৯৮৬), পুনরুদ্ধার (১৯৯২), উদ্বাস্তু (১৯৯৪), মধ্যরাতের প্রতিধ্বনি (২০০১), অন্ধকারে মৃত্যুর উৎসব (২০০৬), মুহূর্তের কবিতা (২০০৬), Refujee and the festval of death in darkness (২০১০), সৌর-রামায়ণ (২০১১), অক্টাভিও পাস ও ডেরেক ওয়ালকটের কবিতা (অনুবাদ) (২০১১), কবর খুঁড়ছে ইমাম (২০১১), প্রেমপদাবলি (২০১১), পুরনো দিনের ঘাসফুল (২০১২) (কবিতা), প্রগতিশীল সাহিত্যের ধারা (১৯৭৬), অগ্নিপুরুষ ডিরোজিও (১৯৯০), উদাসীন দিন (উপন্যাস) (১৯৯২), শ্মশানঘাটের মাটি গল্প (১৯৯৫), কিলের চোটে কাঁঠাল পাকে (২০০২), শেয়ালের ডিগবাজি (২০০৭) এবং হেনরি ডিরোজিও (২০১০)।
কবির প্রাপ্ত পুরস্কার ও সম্মাননার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৩), ময়মনসিংহ সাহিত্য-সংস্কৃতি ফোরাম সম্মাননা (২০০৯), সাতক্ষীরা জাতীয় কবিতা পরিষদ কবিসম্মাননা (২০১০), কবিতাবাংলা কবিসম্মাননা (২০১০), বিন্দুবিসর্গ কবিসম্মাননা (২০১১), শৃন্বন্তু কবিসম্মাননা (কোলকাতা) (২০১১), দিকচিহ্ন কবিসম্মাননা (২০১১), কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর কবিসম্মাননা (২০১১), বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (২০১১), শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পুরস্কার (২০১২), কবিতালাপ পুরস্কার (২০১২) এবং ভাষা ও সাহিত্যে একুশে পদক (২০১৯)।






