আজ-  ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - ১২ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি


সময় শিরোনাম:
«» এলাকাবাসী ও এই ওয়ার্ডের মেম্বারসহ ২ বছর যাবৎ চেষ্টা করেও «» নবীগঞ্জে রবীন্দ্র গ্রন্থাগারে রবীন্দ্র ও নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপন «» কমলগঞ্জে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীকাউকে পিছিয়ে আমরা কোন ধরনের উন্নয়ন করতে পারব না «» জুয়া ও মাদকের ভয়াবহ বিস্তার -অপরাধের ঝুঁকিতে মৌলভীবাজার শহর, ধ্বংসের পথে কিশোর-যুব সমাজ (পর্ব ১)  «» নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ৯ যুবক : শোকে স্তব্ধ তিন গ্রাম «» আদমদীঘি চাঁপাপুর ইউনিয়নের পুলিশ ফাঁড়ির নতুন জায়গা পরিদর্শন «» অবিলম্বে দেউন্ডি টি কোম্পানীর ৪ টি চা-বাগানের শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ করে বাগান চালুর দাবি জানিয়েছে চা-শ্রমিক সংঘ «» বকেয়া মজুরি পরিশোধ করে বাগান চালুর দাবি চা-শ্রমিক সংঘের «» UNESCO-Led Youth Research Warns of Growing Climate Pressures on Indigenous Communities «» শ্রীমঙ্গলে লেবু বাগানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

কমলগঞ্জে নদীপাড়ের মাটি যাচ্ছে ইটভাটায় ॥ বন্যা আতংকে এলাকাবাসী

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ধলাই নদীর পাড়ের মাটি অবৈধভাবে যাচ্ছে ইটভাটায়। কোন নিয়মের তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা নদীর পাড় কেটে এসব মাটি বিক্রি করছেন বিভিন্ন ইটভাটায়। এতে চরম হুমকির মুখে পড়েছে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ। উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটার মালিক স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে এসব মাটি নিয়ে যাচ্ছে ভাটায়।
স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করে বলেন, কমলগঞ্জ উপজেলার ৩নং মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সুরানন্দপুর-কুমারটেকি এলাকার নদী পাড় কাটছেন প্রভাবশালী গফুর মিয়া, মনা চৌকিদার, মখাই মিয়া গংরা প্রতিবছর ধলাই নদীর পাড়ের মাটি কেটে বিক্রি করেন। এবছরও ধলাই নদীর পাড় কেটে মাটি নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ব্রিকস ফিল্টে। আর ট্রাক্টরে করে এসব মাটি আনা-নেওয়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। এলাকাবাসী এ কাজে অনেক বার বাঁধা দিলেও তাতে কোনো কাজ হয়নি। বরং বিভিন্নভাবে নেতাদের নাম ভাংগিয়ে তাদের ভয় দেখিয়ে ধমিয়ে রাখা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাটি কাটার মেশিন দিয়ে ও কোদাল দিয়ে নদীর পাড় খনন করে মাটি নেওয়া হয়েছে ইটভাটায়। প্রতিরক্ষা বাঁধ কেটে তৈরি করা হয়েছে মাটিবাহী গাড়ি চলাচলের রাস্তা। ভারী ওজনের মাটিবাহী ট্রাক ও ট্রাক্টরের চলাচলে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গাড়ি চলাচল করায় রাস্তার ধুলাবালিতে এলাকাবাসী বিপাকে পড়েছেন। এলাকাবাসী জানান, নদী পাড়ের মাটি কাটার ফলে বন্যার সময় দ্রুত পানি এসে প্রতিরক্ষা বাঁধে আক্রমণ করবে। তাদের মাটির গাড়ি চলাচলে যে ক্ষতি হচ্ছে তাতে বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। এতে আশপাশের প্রায় অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হতে পারে।
ভুক্তভোগী এলাকার বাসিন্দারা বলেন, আমরা বারবার নিষেধ করার পরও তারা কোনো কথা শুনছে না। বন্যা হলে বাঁধ ভাঙার আতঙ্কে থাকি। এর জন্য দায়ী এই অসাধু মাটি বিক্রেতা ও ক্রেতারা। এবার যেভাবে বন্যা হয়েছে, আগামী বছর যদি এভাবে বন্যা হয়, তাহলে ভাঙন নিশ্চিত। মাটি বিক্রেতা গফুর বলেন, প্রতিবছর মাটি বিক্রি করছি এতে কোন সমস্যা হচ্ছেনা। স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন মল্লিক বলেন, এব্যাপারে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করেছেন। আমি নিজেও অনেক ফরিয়াদি হয়েছি কোন সফলতা আসেনি।
পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম, মৌলভীবাজার এর সাধারণ সম্পাদক নুরুল মোহাইমীন মিল্টন বলেন, জমির উর্বর মাটি চলে যাওয়ায় এমনিতেই কৃষির ক্ষতি বয়ে আনছে। এর পাশাপাশি ইটভাটার ধোঁয়া এবং নদী পারের মাটি কেটে নেয়ায় পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ও এলাকার জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড, মৌলভীবাজার এর নির্বাহী প্রকৌশলী নরেন্দ্র শংকর চক্রবর্ত্তী জানান, নদী পাড়ের মাটি কাটা বা বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। নদীর পাড় ক্ষতিগ্রস্থ হলে প্রতিরক্ষা বাঁধে তার প্রভাব পড়বে। এভাবে মাটি কাটা সম্পুর্ণ নিষেধ।
এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নাই, তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।